রোববার রাতে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দুই দল রাজস্থান রয়্যালস ও কিংস এলেভেন পাঞ্জাব। উত্তেজনার পারদে ঠাসা ম্যাচটিতে আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে রাজস্থান। পাঞ্জাবের করা ২২৩ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ ৪ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলেছে আইপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটি।

এই ম্যাচে কী ছিল না! প্রথম ইনিংসে পাঞ্জাবের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড গড়েছিলেন দুই ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও লোকেশ রাহুল। এবারের আইপিএলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকান মায়াঙ্ক, আবারও রানের ফোয়ারা ছোটে রাহুলের ব্যাটে। শেষদিকে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, পাঞ্জাব পায় ২২৩ রানের বিশাল সংগ্রহ।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেন স্টিভেন স্মিথ ও সাঞ্জু স্যামসন। দুজন মিলে জয়ের আশা জাগান রাজস্থান শিবিরে। স্মিথ ২৭ বলে ৫০ ও স্যামসন ফিরে যান ৪২ বলে ৮৫ রান করে। তখনও জয়ের জন্য ২৩ বলে ৬৩ রান করতে হতো রাজস্থানকে। উইকেটে ছিলেন প্রথম ১৯ বলে মাত্র ৮ রান করা রাহুল তেওয়াতিয়া। যার কারণে হারতে চলেছে রাজস্থান, এমনটাই ভাবছিলেন সবাই।

সেই তেওয়াতিয়াই পরে বনে যান রাজস্থানের জয়ের নায়ক। শেলডন কটরেলের করা ১৮তম ওভারে পাঁচটি ছক্কা হাঁকান তেওয়াতিয়া। পুরো ম্যাচের সমীকরণ চলে আসে রাজস্থানের পক্ষে। প্রথম ১৯ বলে ৮ রান করা তেওয়াতিয়া পরের ১২ বলে করেন ৪৩ রান, হাঁকান ছয়টি ছক্কা। তার ৩১ বলে ৫৩ রানের ইনিংসেই শেষতক ম্যাচ জেতে রাজস্থান।

তবে ব্যাটসম্যানদের এমন দাপট দেখানো ম্যাচে ফিল্ডিং দিয়ে নজর কেড়েছে পাঞ্জাবের ক্যারিবীয় তারকা নিকোলাস পুরান। রাজস্থান ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে এমন এক ছয় বাঁচিয়েছেন পুরান, যা কি না রীতিমতো থ বানিয়ে দিয়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে। ভারতীয় ব্যাটিং ঈশ্বর শচিন টেন্ডুলকার তো বলেই দিয়েছেন, নিজের জীবনে এমন ফিল্ডিং আগে দেখেননি তিনি।

ঘটনা রাজস্থানের ইনিংসের অষ্টম ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে। মুরুগান অশ্বিনের শর্ট পিচ ডেলিভারিতে সজোরে পুল করে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করেন সাঞ্জু স্যামসন। ব্যাটে-বলে টাইমিং হয় দারুণ, বলও যাচ্ছিল সীমানার ওপারে। ঠিক তখনই বাজপাখির মতো উড়ে এসে সেটিকে প্রথমে ক্যাচ ধরেন পুরান। পরক্ষণেই বুঝতে পারেন পড়ে যাচ্ছেন দড়ির ওপারে, সঙ্গে সঙ্গে বলটিকে ছুড়ে দেন বাউন্ডারির ভেতরে।

পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে। অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতার সঙ্গে অবিশ্বাস্য উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে নিশ্চিত ছয়টিকে ফেরান পুরান। যা সঙ্গে সঙ্গে আলোড়ন তোলে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। ধারাভাষ্য কক্ষে কেভিন পিটারসেন তৎক্ষণাৎ ঘোষণা দেন, ‘আইপিএলে আমার দেখা এটিই সেরা ফিল্ডিং।’ তাকে শুধরে দেন পাশে বসা মাইকেল স্ল্যাটার, ‘শুধু আইপিএল নয়, আমার দেখা সবসময়ের সেরা ফিল্ডিং এফোর্ট।’

শুধু পিটারসেন বা মাইকেল স্ল্যাটার নন, পুরানের এই ছক্কা বাঁচানোর ঘটনা মুগ্ধ করেছে সবাইকে। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার টুইট করেছেন, ‘আমার জীবনে দেখা সেরা ফিল্ডিং সেভ এটি। সত্যি মনোমুগ্ধকর।’

শচিনের সাবেক সতীর্থ ভিরেন্দর শেবাগ অবাক বনে গেছেন অভিকর্ষ টানকে উপেক্ষা করে পুরানের এমন ফিল্ডিংয়ে। বিস্ময় প্রকাশ করে শেবাগ লিখেছেন, ‘অভিকর্ষ বলতে যে কিছু একটা আছে, তাই ভুলিয়ে দিয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব। অভিকর্ষজ টানকেও হার মানিয়েছ পুরান, কী দুর্দান্ত সেভ!’

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া লিখেছেন, ‘এটা কীভাবে করলে পুরান? তোমার জার্সির নিচে বিশেষ কিছু পরোনি তো? আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি।’

শুধু ক্রিকেটপাড়াই যে উদ্বেলিত হয়েছে পুরানের এমন ফিল্ডিংয়ে, তা নয়। বলিউড তারকা রিতেশ দেশমুখও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন পুরানকে। তিনি লিখেছেন, ‘ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ফিল্ডিংটা দেখলাম মাত্র। অসাধারণ সৌন্দর্য্য পুরান।’

রিতেশের এই টুইটের রিটুইট করে পাঞ্জাবের মালিক প্রীতি জিনতা লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় না আগে কখনও এমন কিছু দেখেছি। এই ফিল্ডিংটা অনেক বেশি সুন্দর, অনেকটা কবিতার মতো। এটা নিশ্চিতভাবেই সেরা সেভ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। সন্দেহাতীতভাবেই এটা সবসময়ের সেরা ফিল্ডিং।’

ভিডিওতে দেখুন নিকোলাস পুড়ানের অবিশ্বাস্য ফিল্ডিংঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *